The Daily Adin Logo
সারাদেশ
রূপালী ডেস্ক

রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

গজারিয়ায় জিনের বাদশার প্রতারণা, নিঃস্ব প্রবাসীর পরিবার

গজারিয়ায় জিনের বাদশার প্রতারণা, নিঃস্ব প্রবাসীর পরিবার

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কথিত এক জিনের বাদশার ফাঁদে পড়ে ১৭ ভরি স্বর্ণ ও ১ লক্ষ টাকার অর্থ-সম্পদ হারিয়েছে সৌদি আরব প্রবাসী রবিউল আলমের পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।

খবর পাওয়া যায়, গজারিয়া উপজেলার বালুরচর গ্রামের রবিউল আলমের একমাত্র মেয়ে ফারিয়ার বিয়ে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের চর কিশোরগঞ্জ এলাকার ইয়ামিনের সঙ্গে। শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইলে কল আসে কথিত এক জিনের বাদশার কাছ থেকে। সে ফারিয়াকে তাকে বাবা সম্বোধন করতে বলে। এরপর তাকে স্বর্ণের পুতুল, সোনা-রুপার কলস ও অন্যান্য সম্পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়।

প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস না করলেও পরবর্তীতে ফারিয়া তা বিশ্বাস করে তার মা পরীবানুকে জানান। পরে কথিত জিনের সঙ্গে মা-মেয়ের কথাবার্তা চলে।

২৬ আগস্ট রাতে কথিত জিনের বাদশা পরীবানুকে ফোন করে স্বর্ণের পুতুল দেওয়ার কথা বলে এবং পরের দিন সকাল ২৭ আগস্ট গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে যেতে বলে। সেখানে মসজিদের পাশে একটি গাছের তলার চিপসের প্যাকেটে লাল কাপড় মোড়ানো একটি পুতুল পান তারা। বলা হয়, বাড়ি ফিরে গভীর রাতে প্যাকেট খুলে দেখতে হবে। রাতেই পুতুল খোলার পর তারা বিশ্বাস করেন এটি সোনার।

পরবর্তীতে জীনের বাদশা মা-মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে সকল স্বর্ণালংকার প্লাস্টিকের কাগজে মুড়িয়ে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি আমগাছের নিচে রাখতে বলে। ২৮ আগস্ট মা-মেয়ে মিলে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার সেখানে রেখে আসেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন খাত দেখিয়ে তিনবারে মা-মেয়ের কাছ থেকে বিকাশে এক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়।

পরে পুতুলটি স্থানীয় স্বর্ণকারের দোকানে নিয়ে গেলে জানা যায়, এটি সোনার নয়, কাঁসার তৈরি। বিভিন্নভাবে কথিত জিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। বাধ্য হয়ে ৩০ আগস্ট রাতে তারা গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ফারিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। এরকম ঘটনা আমার সাথে প্রথম ঘটেছে। পুরো বিষয়টি তিনি যেভাবে উপস্থাপন করেছিলেন, আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলাম। ভয় লাগায় আমি আমার মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়েছিলাম।’

মা ভুক্তভোগী পরীবানু বলেন, ‘আমি সরল মনে তার কথা বিশ্বাস করেছিলাম। স্বর্ণের পুতুল পাওয়ার পর বিষয়টিকে সত্যি মনে করেছি। কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি, আমরা প্রতারিত হচ্ছি। প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ ও নগদ টাকা আমরা তার হাতে তুলে দিয়েছি। এই প্রতারণায় আমরা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি।’

গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি কতদূর অনুসন্ধান করা যায় তা দেখার জন্য।’

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
প্রকাশক : মো. সাইদুল ইসলাম সাজু

সম্পাদক কর্তৃক বিসমিল্লাহ্ প্রিন্টিং প্রেস, ২১৯ ফকিরাপুল ১ম গলি, মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও হাউজ নং ৯, রোড ১৭, ব্লক ডি, বনানী, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

টেলিফোন : ০৯৬৩৯১০১৯২৩

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookxyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.