গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে রাঙামাটি জেলা সদরে প্রায় তিন হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার নিন্মাঞ্চল গুলোতে পানি উঠে ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। তাই বানবাসী মানুষগুলো কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এছাড়াও অভাব অনটনে দিন কাটছে গরীব অসহায় মানুষগুলোর। পরিবার পরিজন নিয়ে দুঃখে কষ্টে দিনাতিপাত করছে তারা। তাদের এই মানবেতর জীবনযাপন স্থবির হয়ে পড়েছে। তাদের কষ্টের কথা শুনার মত কেউ নেই।
সদরের স্থানীয়রা জানান, বিগত দিনে দেখেছি ঘর-বাড়িতে পানি উঠার সাথে সাথে জেলা প্রশাসক নিজেই এসে খোঁজ খবর নিতেন এবং নিজ হাতে প্রতিটি ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌছিয়ে দিতেন। কিন্ত বর্তমান জেলা প্রশাসক পানি বন্দী মানুষদের কোন খবরা খবর নিচ্ছেন না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন বানবাসীরা। তবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নামে মাত্র পৌরসভার কয়েকটি স্থানে কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গিয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতে যাচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও কাপ্তাই কর্ণফুলি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কোন প্রকার দায়-দায়িত্ব নেই মনে হচ্ছে। আমাদের দাবি দ্রুত ভাবে কাপ্তাই হ্রদের ৪-৫ ফুট পানি ছেড়ে দেওয়া হলে নিন্মাঞ্চলের মানুষ পানি বন্দী দশা হতে রক্ষা পাবে।
এদিকে রাঙামাটি পৌর প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন মুঠোফোনে জানান, ‘পানি বন্দী মানুষদের পৌরসভা পক্ষ হতে কোন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। সদর উপজেলা হতে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, ‘রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও সদর উপজেলার নিন্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বেশ কিছু ওয়ার্ডে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌরসভা ও সদর উপজেলায় এই পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।’
এদিকে কাপ্তাই কর্ণফুলি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানান, ‘জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১৬ জলকপাট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা করে পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত হ্রদের পানির স্তর ১০৮ ফিট রয়েছে।’

সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন







