The Daily Adin Logo
রাজনীতি
রূপালী প্রতিবেদক

বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতি ক্রমশ পরিস্থিতি কঠিন করছে: আমীর খসরু

নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতি ক্রমশ পরিস্থিতি কঠিন করছে: আমীর খসরু

বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, ‘এক বছর আসলে অনেক দীর্ঘ সময়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক আগেই দেশকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরানো উচিত ছিল। এই বিলম্বের কারণে বাংলাদেশ দিন দিন অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ তাদের অভ্যুত্থানের পরে সমস্যা তৈরি করে, বিভিন্ন দাবি ও অজুহাত তৈরি করে, তারা তাদের গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলে এবং তাদের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। এই দেশগুলোও গৃহযুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে এবং সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণেই আর বিলম্ব না করে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই দূরত্বের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারি কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। আমরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নিরাপত্তার অভাব এবং এমন একটি ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রত্যক্ষ করছি, যা আসলে কার্যকর নয়। কারখানাগুলো নতুন বিনিয়োগ পাচ্ছে না, কারণ এই অনিশ্চয়তার মধ্যে কেউ তাদের সময়, অর্থ বা সম্পদ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়।’

তিনি বলেন, সঠিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দেশ ইতোমধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় হারিয়েছে, যা বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে আরও গভীরে ঠেলে দিচ্ছে।

আমীর খসরু বলেন, ‘সাম্প্রতিক এক শীর্ষ সম্মেলনে, নতুন কোনো বিনিয়োগ করা হয়নি, যদিও বর্তমান অনেক বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন। তবে এখন, নির্বাচনের সময় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আশার কিছু লক্ষণ দেখতে শুরু করেছি। এটা স্পষ্ট যে বিনিয়োগকারীরা তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নির্বাচনের পরে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

খসরু গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের মানসিকতার পরিবর্তনকে মূল্যায়ন করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণের মানসিকতায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। তাদের প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা আকাশছোঁয়া, কিন্তু আমরা যদি এই পরিবর্তনগুলো বুঝতে এবং স্বীকার করতে ব্যর্থ হই, তাহলে রাজনৈতিক নেতা এবং দলগুলোর কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। আমরা যদি এটি স্বীকার না করি, তাহলে দল, আমার এবং দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কারও ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে না।’

বিএনপির এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করা বন্ধ করতে হবে। যদি আমরা আন্দোলনের কৃতিত্বের জন্য লড়াই চালিয়ে যাই—তাহলে বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কৃতিত্ব জনগণের, দেশের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের, ব্যক্তিদের নয়।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন ও কাজে ফিরে আসেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা সম্মুখ সারিতে লড়াই করেছিলেন তারা তাদের ভূমিকায় ফিরে আসেন। শিক্ষকরা তাদের স্কুলে ফিরে যান এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজে ফিরে যান। স্বাধীনতা সংগ্রামকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করার ধারণার বাইরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোনিবেশ করার সময় এসেছে।’

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
প্রকাশক : মো. সাইদুল ইসলাম সাজু

সম্পাদক কর্তৃক বিসমিল্লাহ্ প্রিন্টিং প্রেস, ২১৯ ফকিরাপুল ১ম গলি, মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও হাউজ নং ৯, রোড ১৭, ব্লক ডি, বনানী, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

টেলিফোন : ০৯৬৩৯১০১৯২৩

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookxyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.